বড়দিদি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Share this post

বড়দিদি – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

শরৎচন্দ্রের আর সব উপন্যাস এর মতই, এক জীবনধর্মী গল্প এ। পাঠক প্রথমেই পরিচিত হবে আত্মনির্ভরশীলতা-শূণ্য, আত্মভোলা, মেধাবী কিন্তু অপরিপক্ক সুরেনচন্দ্রের সাথে। 

ধনকুবের পিতার মাতৃহারা সন্তান সুরেন চিরটাকালই যেন বিমাতার হাতের পুতুল। বিমাতার অতি স্নেহ নাকি অতি নজরদারি, নাকি অতি মনোযোগ, যাই হোক না কেন, তা যে সুরেনের জীবনটাকেই অর্থহীন করে তুলেছে এ বিষয়ে বিশেষ সন্দেহ নেই। তাইতো এমএ পাশ করার পরই সুরেন মুক্তির পথ খুঁজতে  থাকে। কোনো পথ না পেয়ে শেষে বাধ্য হয়ে পথেই নামে।

এমন সময়ই ঘটনা ক্রমে সুরেনের দেখা হয়ে যায় সম্পুর্ণ বিপরীত গুনাবলীর মাধবীর সাথে। একে কী দেখা হওয়া বলা যায়? বা পরিচিত হওয়া? না, কারণ তারা তো কখনোই কাউকে দেখে নি, বাক্য বিনিময়ও করে নি। তবুও, তারপরেও, তাদের মাঝে এক অদ্ভুত বন্ধন গড়ে উঠে। যার হয়তো কোনো নাম হয় না।

বিধবা তরুণী মাধবী, সকলের “বড়দিদি”, জমিদার পিতার পুরো বাড়ির দায়িত্ব তার। শুধু আত্মনির্ভরশীলই নয়, সকলের নির্ভরের পাত্রও বটে সে, এমনকি, গৃহছাড়া চিরনির্ভরশীল সুরেনেরও। বড়দিদিরও কী যেন এক মায়া জন্মে যায় এই অদেখা অগোছালো মানুষটির প্রতি। এ কী শুধুই মায়া? স্নেহ? নাকি হৃদয় হতে আগত অনুভূতি, ভালবাসা?

তবুও একটা সময়, যে যার জীবনে ফিরে যায়।

কিন্তু, বহু বছর পরে, আবার তারা মুখোমুখি!  সুরেনের জীবনের শেষ সময়ে সে প্রথমবারের মত, বড়দিদির মুখোমুখি হলো আজ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Change